বিরুলিয়া'র প্রাচীন স্থাপনাসমূহ - হতে পারতো আরেক 'পানাম নগরী'!!!

#

গল্পের ছবিসকল

  • বিরুলিয়া
  • বিরুলিয়া
  • বিরুলিয়া
  • বিরুলিয়া
  • বিরুলিয়া
  • বিরুলিয়া
  • বিরুলিয়া
  • বিরুলিয়া
  • বিরুলিয়া
  • বিরুলিয়া
  • বিরুলিয়া
  • বিরুলিয়া
  • বিরুলিয়া
  • বিরুলিয়া
কয়েকমাস আগে এক ছুটির দিনে এক ভ্রমণবন্ধুর মোটর সাইকেলে করে গিয়েছিলাম টঙ্গীস্থ দত্তপাড়া জমিদার বাড়ীর খোঁজে। সেখান হতে দুপুরের পর চলে গেলাম আশুলিয়া হয়ে বিরুলিয়া। শতবর্ষ প্রাচীন এক হারিয়ে যাওয়া জনপদে। মিরপুর বেড়ীবাঁধ ঘেঁষে নদীপার এলাকা বিরুলিয়া। 
যে কেউ মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছন হতে টেম্পু, বাস বা যে কোন যানে করে চলে আসতে পারেন বিরুলিয়ার এই প্রাচীন জনপদে। ছোট্ট একটি খালমত জলাশয় (তুরাগ নদীর অংশবিশেষ) নৌকাযোগে পার হলেই আপনি বিরুলিয়া বাজারে ঢুঁকে পড়বেন। এই জলাশয় পার হওয়ার সময় হাতের বামে তাকালে দেখতে পাবেন বিরুলিয়ার শতবর্ষ পুরানো এক বটবৃক্ষ, সাদা চুনকাম করা ফুট পাঁচেকের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। এই বটগাছটারই ছবি বড় করে ঝোলানো আছে কোলকাতায় অবস্থিত ইন্ডিয়া তথা বিশ্বব্যাপি সমাদৃত আদি ঢাকেশ্বরী বস্ত্রালয় এর প্রধান শো রুম এ। কারণটা হল এ বটগাছের গোড়াতেই আদি ঢাকেশ্বরী বস্ত্রালয় এর কর্ণধার বাবু নিতাই এর পূর্বপুরুষরা পূজা অর্চণা করতেন। 
প্রতি বাংলা বছরের প্রথম দিনে, পহেলা বৈশাখে মেলা বসে বটতলায়। আজকের ছোট্ট গ্রাম প্রায় ১০০ বছর আগে ছিল বিরুলিয়া নগরী। মিরপুর বেড়িবাঁধ থেকে নৌকায় তুরাগ নদী পার হলেই বিরুলিয়া। বর্ষাকালে গ্রামটিকে মনে হয় দ্বীপ। আগে ছিল ১৪-১৫টি, এখন আছে ৭-৮টি নকশাবহুল শতবর্ষী ভবন। এগুলোয় বসবাস করতেন তারকচন্দ্র সাহা, গোপিবাবু, নিতাইবাবু, রজনী ঘোষ প্রমুখ ব্যবসায়ী। বংশী, ধলেশ্বরী ও তুরাগ নদী পথে তাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। তারা এখানে বসে নিলাম কিনতেন আর পরিচালনা করতেন জমিদারীর। আর এখানেই একসময় বসতি ছিল আদি ঢাকেশ্বরী বস্ত্রালয় এর কর্ণধার এর পিতৃপুরুষদের। 
চমৎকার ইট বিছানো রাস্তায় পশ্চিমে আগাতেই প্রথম চেখে পড়বে ৮৫ বছর পুরোনো শ্রী শ্রী বৃন্দাবন চন্দ্র জিউ বিগ্রহ মন্দির। সামেনে নানান ধরণের দোকান/বাড়ি - মাটির, টিনের, আধাপাকা, বিল্ডিং। বর্তমান বাসিন্দা নারায়ণচন্দ্র সাহা জানান, তাঁদের ইট-সুরকির বাড়িটি ১৩২৫ বাংলা সনে তাঁর দাদা তৈরি করেন। দাদা ছিলেন পাট ব্যবসায়ী। বর্তমানে গ্রামটিতে বাস করে আড়াইশ পরিবার। মসজিদ, মন্দির, স্কুল, কবরস্থান, শ্মশানঘাট ও বাজার আছে। বহুদিন আগের তৈরি মাটির ঘরও চোখে পড়ে। গ্রামের প্রধান রাস্তাটি সরু এবং ইটের সোলিং করা। এটি তারকচন্দ্র সাহা সড়ক নামে পরিচিত। 
সাধারণত ঢাকা হতে বিরুলিয়ে গেলে যে পথ দিয়ে যায় আমরা ঠিক তার বিপরীত দিক দিয়ে প্রবেশ করলাম বিরুলিয়া গ্রামে। অর্থাৎ বিরুলিয়ার একেবারে শেষ প্রান্ত দিয়ে। প্রবেশ মুখেই একটি একতলা পুরাতন বাড়ী। এখানে থেমে জলপান এবং বিশ্রাম সেরে নিলাম। কারণ সেদিন ছিল প্রচণ্ড গরম। এরপর শুরু হল আমাদের বিরুলিয়া দর্শন। মোটর সাইকেল এক একটি বাড়ীর সামনে রেখে, সেখানে বর্তমানে বসবাসরত বাসিন্দাদের অনুমতি নিয়ে আমরা ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম শতবর্ষ আগের এই সকল স্থাপনা আর মনে মনে কল্পনা করছিলাম সেই জমজমাট নগরীর চিত্রখানা। 
যদি পানাম নগরীর মত বিরুলিয়ার এই সকল স্থাপনাগুলোকে সংরক্ষণ করা হত সরকারী উদ্যোগে, তাহলে এটা হতে পারত ইতিহাস আর ঐতিহ্যের মিশেলে এক অনন্য পর্যটন কেন্দ্র। বর্ষায় চারিদিকে যখন অথৈ জল নিয়ে ছোট্ট বিরুলিয়া দ্বীপেরমত জেগে থাকে তার শতবর্ষ পুরানো এই সকল স্থাপনা নিয়ে, তখন বড়ই নয়নাভিরাম লাগে দেখতে। তো এই বর্ষায় যাচ্ছেন কি বিরুলিয়া ভ্রমণে। আমার ছোট্ট ক্যামেরায় তোলা কিছু ছবি আপনাদের জন্য।
তথ্যসুত্রঃ কালের কণ্ঠ

ভ্রমণকালঃ ১৮ এপ্রিল, ২০১৪

Translate

বোকা পর্যটকের কথা

মানুষ যেমন হঠাৎ করেই কারো প্রেমে পড়ে, ঠিক তেমনই করে আমিও প্রেমে পড়েছি ভ্রমণের। আজব এক নেশায় নেশাগ্রস্থ, কবে থেকে জানি না। তবে নিজের আর্থ-সামাজিক অবস্থানে লড়াই করে টিকে থাকার পর ভ্রমণে মনঃসংযোগ করতে উদ্যত হই। সেই থেকে যখনই সময়-সুযোগ হয় বেড়িয়ে পড়ি ঘর হতে, ভ্রমণের তরে। মজার ব্যাপার হল, আমি সাইক্লিস্ট নই, সাঁতার কাটতে পারি না, না পারি ট্র্যাকিং, হাইকিং, ক্লাইম্বিং। কোন ধরণের এডভেঞ্চারধর্মী কোন গুণই আমার নেই, শুধু আছে ভ্রমণের শখ আর অদম্য ইচ্ছাটুকু। আর সেই ইচ্ছা থেকেই সময় সময় আমার ঘুরে বেড়ানো আর সেই গল্পগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখা এই ডায়েরীতে। আমার এই লেখাগুলো বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগত ডায়েরীতে লেখা ছিল; সেগুলো সব একত্রে সংরক্ষণ করে রাখার নিমিত্তেই এই ব্লগ। যদি আপনাদের কারো এই লেখাগুলো কোন কাজে লাগে তবে আমার পরিশ্রম কিছুটা হলেও সার্থক হবে।

পোস্ট সংরক্ষণাগার

যোগাযোগ ফর্ম

প্রেরণ