চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়, আর আমার সেইরাম একটা আছাড়!!!

#

গল্পের ছবিসকল

  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
  • চন্দ্রনাথ মন্দির – সীতাকুণ্ড পাহাড়
হাঁপাতে হাঁপাতে প্রায় মিনিট পাঁচেক সময় নিলাম নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসতে। তখন অবশ্য শ্বাস-প্রশ্বাস এর ব্যাপারটা মাথায় নেই। ডানে-বায়ে দুদিকে চিরহরিৎ বর্ণের চাদরে ঢাকা পাহাড়, পেছনেতো সারি সারি ছোট-বড় পাহাড়-টিলা সবুজে ঢেকে আছে। সামনে একটু নিচু এক পাহাড়ের চূড়োয় একটা মন্দির ছোট্ট খেলনা বিন্দুর মত লাগছে। আরেকটু সামনে তাকালে বঙ্গোপসাগরের অংশ চোখে পড়ে। তারপরে দিগন্ত রেখায় লম্বা কালো একটা টান, ক্রমশ সমুদ্রতলে হারিয়ে যেতে থাকা দ্বীপ ভূখণ্ড ‘সন্দিপ’। নীচের চারটি ছবি সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ মন্দির যে পাহাড়ে অবস্থিত, সেখান হতে চারদিকের দৃশ্য’র সাক্ষী দিচ্ছে। 
ঘটনার শুরু ঈদের তিন-চার দিন পর থেকে। ভ্রমণবন্ধু হাসিব ঈদের আগেই তার ফেবুতে স্ট্যাটাস দিল, চিটাগং হান্টিং এ যাচ্ছে; টার্গেট আশেপাশের এলাকা সব চষে ফেলা। কিন্তু ছুটি আর কর্মব্যাস্ততার গ্যারাকলে আরও দু’য়েকজনের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমাদের সাথে যোগ দিতে পারেনি। কিন্তু চিটাগং পৌঁছানোর পর থেকে বৈরী আবহাওয়া আর বৃষ্টির রোষানলে পড়ি আমরা। তিনদিন তেমন কোথাও যাওয়া হয় নাই, ফলে তিন চারটি টার্গেটেড স্পট বাদ গেছে এবার, নেক্সট টাইম হবে ইনশাল্লাহ। 
গত মাসের সাত তারিখ ভোর থেকে এই মেঘ... এই বৃষ্টি... এই চলল রৌদ্র-ছায়ার খেলা। দ্বিধা-দন্দ ঝেড়ে ফেলে সকাল নয়টা নাগাদ হাসিবের ভাইয়ের বাসা হতে আমরা বের হলাম (এই এক সপ্তাহ আমরা উনার বাসাতেই ছিলাম)। সকাল দশটায় অলংকার মোড় হতে চয়েস পরিবহণের গাড়ীতে করে রওনা হলাম সীতাকুণ্ড। পথে এই তুমুল বৃষ্টি পড়ে তো এই আবার সূর্য উঁকি দিয়ে রৌদ্র ছড়িয়ে যায়। বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ আমরা সীতাকুণ্ড পৌঁছলাম। 
চন্দ্রনাথ মন্দির উঠার দু’তিনটি রাস্তা আছে, তন্মদ্ধ্যে একটি হল সীতাকুণ্ড কলেজ রোড দিয়ে সোজা গিয়ে বাঁধানো সিঁড়ি সংযুক্ত যে পথে বেশ কিছু মন্দির পড়ে সেই পথ। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পিচ্ছিলতা তার সাথে আমার হালকা পাতলা শরীর (অল্পের জন্য যা কিলোগ্রামে থ্রি ডিজিট টাচ করে নাই) এবং আমাদের দুইজনের ছোট্ট দল, এগুলো বিবেচনায় রেখে আমরা এই পথটি নির্বাচন করি পাহাড়ে উঠার। যদিও অধিকাংশ ট্রাভেলারের মতে এই পথে নামা সহজ, উঠা সহজ মাটির রাস্তা দিয়ে যা ইকো পার্কের সংলগ্ন। কিন্তু কি আর করা, হাজার হলেও সেইফটি ফার্স্ট।
বাস থেকে নেমে রিকশা করে কলেজ রোড হয়ে একেবারে পাহাড় সংলগ্ন মন্দির এলাকার গেটে পৌঁছলাম। তখন আবার বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। আমি আর হাসিব দুজনেই দ্বিধায় ছিলাম কি করা যায়? সাহস করে উপরে উঠা শুরু করলাম। প্রথম আধ ঘণ্টা মানুষজনের দেখা পাচ্ছিলাম, কিন্তু একটা ছোট্ট মন্দির পেরুনোর পর আর কারো দেখা নাই। কি করি... কি করি... এই যখন ভাবছি তখন উপর থেকে বছর বিশ-পঁচিশের তিনজন ছেলে নেমে আসলো। তারা ফিরে আসার কারণ বৃষ্টির জন্য সিঁড়ি দিয়ে প্রচুর পানি নামছিল, অনেকটা ঝিরি পথের মত। আর তাই ভয়ে তারা এগোয় নাই। আমাদের দেখে যখন জানলো আমরাও উপরে মন্দিরে যাবো, তখন তারা আবার আমাদের সাথী হল, আমাদেরও কিছুটা ভয় কমল। পিচ্ছিল সিঁড়ি দিয়ে সাবধানে পা ফেলে ফেলে এগুতে লাগলাম। এরই মধ্যে আরও দুটি ছেলে পেছন থেকে এসে আমাদের দলে ভিড়ে গেল। দল হল সাতজনের।
খাড়া উপরের দিকে উঠা মানেই আপনি মধ্যাকর্ষণের বিপরীতে চলছেন, এই যাত্রা প্রচুর কষ্টকর। আমিতো বিশ-ত্রিশ ধাপ উঠে উঠে মাছের মত হা করে শ্বাস নিতে থাকি আর হৃদপিণ্ডের অস্বাভাবিক লাফালাফি থামাতে মিনিট’খানেকের বিরতি। এক সময় আমাদের ফেলে বাকী পাঁচ জন অনেক দূর এগিয়ে গেল এবং উঁচু একটা জায়গা হতে আমাকে নিষেধ করল আর না উঠতে। কারণ সত্যি আমার বুকের বাম পাশে মৃদু ব্যাথা হচ্ছিল। মিনিট পাঁচেক রেস্ট নেয়ার পর দেখি পেছন হতে বছর পঞ্চাশের এক মহিলা সহ চারজনের একটা পরিবার উঠছে, মন্দিরে পুজোতে যাওয়ার জন্য। তখন ভাবলাম এই বৃদ্ধ মহিলা, বছর দশের একটা ছোট্ট বালিকা এরা যদি উঠতে পারে, তবে আমি কেন পারবো না? শুরু করলাম থেমে থেমে কচ্ছপ গতিতে উপরে উঠা। প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ১৬০০+ ফুট উচ্চতার পাহাড়ে প্রায় ১২০০ ফুট উঁচু সিঁড়ির সারি আর কাঁচা মাটির পথ মাড়িয়ে বেলা দেড়টা নাগাদ উঠলাম সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চুড়ায়। উঠে মনে হল না উঠলে অনেক বড় কিছু মিস করতাম। 
ঘন বর্ষায় যারা পাহাড়ের রূপ দেখেছেন তারা বুঝবেন এটা কি জিনিষ। সবুজে যেন চোখ ঝলসে যায়, আর তার উপর সারারাত-ভোর ছিল তুমুল বৃষ্টি। ফলে পরিস্কার আকাশের নীচে সূর্যালোকে সেই উঁচু হতে চারিদিকের সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্যে ছিল এক ঘোর লাগানো মাদকতা যা আপনি অন্য সময় পাবেন না। বিশ্বাস না হলে পোস্টের শুরুতে দেয়া ফটো স্লাইডারে কিছু ছবি দেখুন।
সীতাকুন্ড শহরের পূর্বে অবস্থিত (চন্দ্রনাথ শৃঙ্গ) ১১৫২ ফুট উঁচু, রাজবাড়ি টিলার উচ্চতা ৮৮৯ ফুট এবং সাজিঢালার উচ্চতা ৮০১ ফুট। চট্টগ্রাম শহরের কাছাকাছি এসে এই পাহাড়ের উচ্চতা অনেক কমে এসেছে। চট্টগ্রাম শহরের উপকন্ঠে বাটালি হিলের উচ্চতা ২৮০ ফুট এবং শহর থেকে সামান্য উত্তরে নঙ্গরখানা ২৯৮ ফুট উঁচু। এই সীতাকুণ্ড পাহাড়ের সারি ধরে একে একে সহস্রধারা আর সুপ্ত ধারা নামের দুটি জলপ্রপাত। মীরসরাই অংশে রয়েছে খৈয়াছড়া, হরিণমারা, হাটুভাঙ্গা, নাপিত্তাছড়া, বাঘবিয়ানী, বোয়ালিয়া, অমরমানিক্যসহ আরো অনেক অনেক ঝর্ণা ও জলপ্রপাত। পূর্বদিকে এই পাহাড় থেকে উৎসারিত হয়ে কয়েকটি ঝর্ণা তথা খাল হালদা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। এর মাঝে গজারিয়া, বারমাসিয়া, ফটিকছড়ি, হারুয়ালছড়ি এবং বোয়ালিয়া অন্যতম। পশ্চিম দিকে মহামায়া ছড়া, মিঠাছড়া সহ আরো কয়েকটি ছড়া ও ঝর্ণা বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। বর্তমানে মহামায়া ছড়ার উপর একটি রাবার ড্যাম নির্মিত হয়েছে। এই লেক দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক, তাছাড়া নীলাম্বর হ্রদ নামে একটি মনোরম লেক এই পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
বাংলাদেশের সীতাকুন্ডের নিকটে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উপরে অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দির অন্যতম বিখ্যাত শক্তিপীঠ। সীতাকুণ্ড অপরূপ প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের লীলাভূমি । এ এলাকাকে হিন্দুদের বড় তীর্থস্থান বলাই ভালো । এখানের সর্বোচ্চ পাহাড় চুড়ায় অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দির । আর অন্যান্য আরো রয়েছে বড়বাজার পূজা মন্ডপ, ক্রমধেশ্বরী কালী মন্দির, ভোলানন্দ গিরি সেবাশ্রম, কাছারী বাড়ী, শনি ঠাকুর বাড়ী, প্রেমতলা, শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রাহ্মচারী সেবাশ্রম, শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম, গিরিশ ধর্মশালা, দোল চত্বর, এন,জি,সাহা তীর্থযাত্রী নিবাস, তীর্থ গুরু মোহন্ত আস্তানা, বিবেকানন্দ স্মৃতি পঞ্চবটি, জগন্নাথ আশ্রম, শ্রীকৃষ্ণ মন্দির, মহাশ্মশানভবানী মন্দির, স্বয়ম্ভুনাথ মন্দিগয়াক্ষেত্, জগন্নাথ মন্দির, বিরুপাক্ষ মন্দির, পাতালপুরী, অন্নপূর্ণা মন্দির ইত্যাদি। এখানে হিন্দু পবিত্র গ্রন্থসমূহ অনুসারে সতী দেবীর দক্ষিণ হস্ত পতিত হয়েছিল। সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ মন্দির তীর্থযাত্রীদের জন্য এক পবিত্র স্থান। এর পুরনো নাম ছিলো "সীতার কুন্ড মন্দির"। রাজমালা অনুসারে প্রায় ৮০০ বছর পূর্বে গৌরের বিখ্যাত আদিসুরের বংশধর রাজা বিশ্বম্ভর সমুদ্রপথে চন্দ্রনাথে পৌঁছার চেষ্টা করেন। ত্রিপুরার শাসক ধন মানিক্য এ মন্দির থেকে শিবের মূর্তি তার রাজ্যে সরিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা করে ব্যর্থ হন। 
এই চন্দ্রনাথ মন্দিরে প্রতিবছর শিবরাত্রি তথা শিবর্তুদশী তিথিতে বিশেষ পূজা হয়; এই পূজাকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে বিশাল মেলা হয়। সীতাকুন্ড চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকা বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর বাংলা ফাল্গুন মাসে (ইংরেজী ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাস) বড় ধরনের একটি মেলার আয়োজন করে থাকে। যেটি শিবর্তুদর্শী মেলা নামে পরিচিত। এই মেলায় বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য সাধু এবং নারী-পুরুষ যোগদান করেন।
বিভিন্ন তথ্য অনুসারে এখানের ইতিহাস সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য জানা যায়। প্রাচীন নব্যপ্রস্তর যুগে সীতাকুণ্ডে মানুষের বসবাস শুরু হয় বলে ধারনা করা হয়। এখান থেকে আবিষ্কৃত প্রস্তর যুগের আসামিয় জনগোষ্ঠীর হাতিয়ার গুলো তারই স্বাক্ষর বহন করে। ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায়, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শতাব্দীতে সম্পূর্ণ চট্টগ্রাম অঞ্চল আরাকান রাজ্যের অধীনে ছিল। এর পরের শতাব্দীতে এই অঞ্চলের শাসনভার চলে যায় পাল সম্রাট ধর্মপাল দ্বারা এর হাতে (৭৭০-৮১০ খ্রীঃ)। সোনারগাঁও এর সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ্ (১৩৩৮-১৩৪৯ খ্রীঃ) ১৩৪০ খ্রীষ্টাব্দে এ অঞ্চল অধিগ্রহন করেন। পরবর্তীতে ১৫৩৮ খ্রীষ্টাব্দে সুর বংশের শের শাহ্ সুরির নিকট বাংলার সুলতানি বংশের শেষ সুলতান সুলতান গীয়াস উদ্দীন মুহাম্মদ শাহ্ পরাজিত হলে হলে এই এলাকা আরাকান রাজ্যের হাতে চলে যায় এবং আরাকানীদের বংশধররা এই অঞ্চল শাসন করতে থাকেন। পরবর্তীতে পর্তুগীজরাও আরাকানীদের শাসনকাজে ভাগ বসায় এবং ১৫৩৮ খ্রী: থেকে ১৬৬৬ খ্রী: পর্যন্ত এই অঞ্চল পর্তুগীজ ও আরাকানী বংশধররা একসাথে শাসন করে। প্রায় ১২৮ বছরের রাজত্ব শেষে ১৯৬৬ খ্রী: মুঘল সেনাপতি বুজরুগ উন্মে খান আরাকানীদের এবং পর্তুগীজদের হটিয়ে এই অঞ্চল দখল করে নেন। 
বেশ কিছুসময় প্রকৃতির রুপসুধা পান আর সাথে ফটোসেশন করে বেলা দুইটার দিকে নামা শুরু করলাম একই পথে। নামার সময় ভেবেছিলাম কষ্ট কম হবে। কিন্তু একি? একেতো খাড়া সিঁড়ি, তার উপর হাঁটুর কাছ থেকে পা ভয়াবহ রকমের কাঁপা শুরু করলো। ভয়ে নয়, ব্যাথায়। অতিরিক্ত ওজন যাদের তাদের মূল সমস্যা এই পায়ের হাঁটু হতে পাতা পর্যন্ত। আমি যখন অর্থপেডিক্স ডাক্তারকে বলেছিলাম, উনি এটার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। আমাদের পুরো শরীরের ওজন কিন্তু হাঁটু হতে পায়ের পাতা, এই অংশকেই বহন করতে হয়। তাই আমার মত হালকা-পাতলা ;) বেশীরভাগ মানুষই পায়ের ব্যাথায় ভুগেন। যাই হোক ওঠার সময় যে ভয় ছিল, নামার সময় তা তেমন ছিল না। একটু সাবধানতাও বোধ হয় কম ছিল। নামার সময় সারাক্ষণ ছবি তুলছিলাম। সবুজের সারি, কখনো ছোট ঝিরি ধরে পাহাড় হতে গড়িয়ে আসা পানিতে সৃষ্ট ক্ষুদ্র ঝর্না, কখনো বানরের দলের দৌড়-ঝাঁপ ইত্যকার নানান কিছুর ছবি তুলতে তুলতে সোয়া ঘণ্টার মধ্যে নীচে নেমে এলাম। একেবারে যখন নীচে নেমেছি তখন ঘটলো আসল ঘটনা।
আর মাত্র সাত আটটা বাঁধানো সিঁড়ি নেমে মেইন গেট যার বাইরে সিএনজি, রিকশা ইত্যাদি দাঁড়িয়ে। শেওলা জমা একটা স্থানে বেখেয়ালে পা দিয়ে নামতে যেয়ে চিৎপটাং। পুরো শরীরের ভর নিয়ে পিছলে ধপাস করে বসে পড়লাম দুই ধাপ নীচের সিঁড়িতে। প্রায় মিনিট দুয়েক আমার ব্যাক হিপের মাংসপেশি সংলগ্ন এলাকা সেন্সলেস ছিল। ব্যাথার প্রচণ্ডতা আমি লিখে বুঝাতে পারবো না। অনেক কষ্টে চিটাগং ফিরে রাতেই জিইসি মোড়ের মেট্রোপলিটন হসপিটালে অর্থপেডিক্স এর এক প্রফেসর সাহেবের এপয়ণ্টমেণ্ট যোগাড় করে দিলেন হাসিবের বড় ভাই। ডাক্তারের দেয়া হাই ডোজের পেইন কিলার আর ঔষধ দিয়ে আরও তিনদিন চিটাগং থেকে আরও চারটি স্পট দেখে ঢাকায় ফিরলাম। ফিরে স্পোর্টস মেডিসিনের ডাক্তার দেখালাম। ডাক্তারের পরামর্শে মাঝখানে গর্তবিশিষ্ট একটা গদি বানিয়ে এখন সেটাতেই আমার সারাক্ষণ বসা, শোয়া। আর ঘোরাঘুরিতো বন্ধই, চলন বিল, সিলেটের দুটা ট্যুর, জমিদার বাড়ীর খোঁজ সব বন্ধ। এখন ফিজিওথেরাপি নিয়ে যদি সম্পূর্ণ ব্যাথামুক্ত হতে পারি। এই বোকা ট্রাভেলারের জন্য দোয়া করবেন। তবে লাভ হয়েছে একটাই, প্রচুর ভ্রমন বিষয়ক লেখা পেন্ডিং রয়ে গেছে সেগুলো একে একে লিখে শেষ করতে পারবো।             

ভ্রমণকালঃ ০৬ আগস্ট, ২০১৪

Translate

বোকা পর্যটকের কথা

মানুষ যেমন হঠাৎ করেই কারো প্রেমে পড়ে, ঠিক তেমনই করে আমিও প্রেমে পড়েছি ভ্রমণের। আজব এক নেশায় নেশাগ্রস্থ, কবে থেকে জানি না। তবে নিজের আর্থ-সামাজিক অবস্থানে লড়াই করে টিকে থাকার পর ভ্রমণে মনঃসংযোগ করতে উদ্যত হই। সেই থেকে যখনই সময়-সুযোগ হয় বেড়িয়ে পড়ি ঘর হতে, ভ্রমণের তরে। মজার ব্যাপার হল, আমি সাইক্লিস্ট নই, সাঁতার কাটতে পারি না, না পারি ট্র্যাকিং, হাইকিং, ক্লাইম্বিং। কোন ধরণের এডভেঞ্চারধর্মী কোন গুণই আমার নেই, শুধু আছে ভ্রমণের শখ আর অদম্য ইচ্ছাটুকু। আর সেই ইচ্ছা থেকেই সময় সময় আমার ঘুরে বেড়ানো আর সেই গল্পগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখা এই ডায়েরীতে। আমার এই লেখাগুলো বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগত ডায়েরীতে লেখা ছিল; সেগুলো সব একত্রে সংরক্ষণ করে রাখার নিমিত্তেই এই ব্লগ। যদি আপনাদের কারো এই লেখাগুলো কোন কাজে লাগে তবে আমার পরিশ্রম কিছুটা হলেও সার্থক হবে।

পোস্ট সংরক্ষণাগার

যোগাযোগ ফর্ম

প্রেরণ