যাত্রা শুরুর গল্প (একযুগ পর হাওরের উদ্দেশ্যে যাত্রা - পর্ব ০২)
ঘাটে দাঁড়িয়ে রাজীব ভাইকে ফোন দিলে উনি এসে রিসিভ করলেন, সরাসরি চার রাতের আবাস ১১৩ নাম্বার রুমে নিয়ে গেলেন, রুমমেট রাজীব ভাই নিজে; সাথে শাকিল ভাই এবং বিকাশ ভাই, উনাদের সাথে এই প্রথম পরিচয়। তখনো উনারা দুজন পৌঁছান নাই। মিনিট পনেরোর মধ্যে উনারাও চলে এলেন। ফ্রেশ হয়ে দোতলার ডাইনিং এরিয়াতে অনুষ্ঠিতব্য এই হাওর সামিট ২০২৬ এর ১ম সেশন শুরু হলো পাঁচটার পর। এই ফাঁকে আসরের নামাজ পড়ে নিলাম শিপের ছাদে। ১ম সেশনের আলোচ্য বিষয় ছিলোঃ "হাওরের জীবন, প্রতিবেশ, জীবন-জীবিকার সংগ্রাম, অভিযোজন ও সম্ভাবনা"। এই সেশনের কিনোট স্পিকার ছিলেন জনাব কাশ্মীর রেজা, বিশিষ্ট হাওর গবেষক, লেখক এবং সংগঠক। মাগরিবের নামাজের পর সান্ধ্যকালীন নাস্তায় ছিলো চাউমিন আর পেয়ারা মাখা সাথে পাণীয় হিসেবে চা/কফি। সাতটার পরে শিপের খোলা ছাঁদে বেশ কিছুটা সময় নামাজ পড়ার কার্পেটে শুয়ে থেকে কানে হেডফোন গুঁজে আকাশে সপ্তমীর চাঁদের সাথে মেঘেদের লুকোচুরি খেলা দেখলাম। এর মাঝে তারারূপী স্যাটেলাইটদের ছুটে যাওয়া চোখে পড়লো মিনিট দশেক পরপর।
রাত নয়টায় সেশন ছিলো আরেকটা, যার প্রতিপাদ্য ছিলোঃ "পরিবেশবান্ধব হাওর ভ্রমণ এবং আমাদের করণীয়",, যার মূলবক্তা ছিলেন অপু নজরুল। এই সেশন এর আলোচনার সারাংশ 'ডিম আগে না মুরগী আগে'র মতো। পরিবেশবাদীদের অভিমত অনুসারে Mass Tourism করা সম্ভব নয়, আবার Mass Tourism এর কারণে হাওরের ইকোসিস্টেম এবং জীব-বৈচিত্র হুমকির সম্মুখীন তা অনস্বীকার্য।
রাত দশটা নাগাদ এই সেশন শেষে ডিনার পরিবেশন করা হয়। মেন্যুতে ছিলো সাদা ভাত, আলু ভর্তা, সবজি ভাজি, মাছের দোপেয়াজা, মুরগীর কারি, ঘন ডাল, সালাদ, মিষ্টি দই। ভরপেট ভোজন শেষে মেঘলা আকাশের নীচে মধ্যরাত পর্যন্ত হেডফোনে প্রিয়সব গান শুনতে শুনতে রাতের নদীপথের যাত্রাটুকু উপভোগ করতে লাগলাম। রাত বারোটার পরে রুমে গিয়ে ঘুমাতে গেলাম। খুব একটা খারাপ কাটলো না প্রথম দিনটি।

মন্তব্যসমূহ