মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড ট্যুর ২০২৬ (শুরুর গল্প)
প্ল্যান ছিলো ২০২০ এর পর থেকে ভারত ভ্রমণ শেষ করে উত্তর-পূর্ব এশিয়া ট্যুর দিয়ে বিশ্বভ্রমণ শুরু করার, যার অংশ হিসেবে ২০২২-২৩ সাল নাগাদ ইউকে ইউরোপ ভ্রমণ। কিন্তু বিধিবাম, করোনা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিলো। ২০২২ এর অক্টোবর-নভেম্বর এ ১৯ দিনের রাজস্থান সলো ট্রিপ ছিলো শেষ ভারত ভ্রমণ। ভারত ভ্রমণের বাকেট লিস্টে বাকী আছে লাদাখ, সিকিম, আন্দামান, পন্ডিচেরি, লাক্ষ্যাদ্বীপ, রামেশ্বরাম আর হায়দ্রাবাদ। ভবিষ্যতে কখনো সময় সুযোগ হলে এগুলোও ঘুরে দেখবো। ভারত ভ্রমণের ৭০+ শহরের তালিকায় যুক্ত হবে আরও কিছু নাম।
তো যাই হোক, একসময় বিশ হাজার টাকার মধ্যে ঢাকা-ব্যাংকক-ঢাকা রিটার্ন ফ্লাইট এভেইলেবল থাকলেও আমি মজে ছিলাম ভারত ভ্রমণে। অনেকেই সে সময় থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ট্যুর এর প্রস্তাব করলেও ভাগ্যে ছিলো না বলেই হয়তো যাওয়া হয় নাই। তো সিএমএ কোয়ালিফাই করার পর গত বছর নতুন অফিসে জয়েন করার সময়ই ম্যানেজমেন্টকে বলেছিলাম, আমার সারা বছর কোন ছুটি লাগবে না খুব একটা বাধ্য না হলে। কিন্তু ঈদের ছুটির সময় অতিরিক্ত ছুটি লাগবে, আমি ভ্রমণে বের হবো। আলহামদুলিল্লাহ ম্যানেজমেন্ট সেই শর্ত মেনে নিয়েছিলেন এবং কথা রেখেছেন আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটির মাঝে অতিরিক্ত ছুটি অনুমোদন করে।
ছুটি অনুমোদন হয়েছিলো মাস তিনেক আগেই। তখন প্ল্যান ছিলো মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর ভ্রমণের। কিন্তু আমার প্রিয় ভ্রমণ ছোট ভাই, Travel Step নামক ট্রাভেল এজেন্সির সত্ত্বাধিকারী হাসিবুর রহমান জানালো, সিঙ্গাপুর এর ভিসা রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা নব্বই ভাগ। তার কথা মেনে নিয়ে প্ল্যান করলাম থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া ট্যুরের। যদিও আমার ইচ্ছে ছিলো থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া-লাওস-ভিয়েতনাম একসাথে ভ্রমণ করার।
প্রথমেই করলাম পাসপোর্ট রিনিউ, বন্ধু মনার সহযোগিতায় পাসপোর্ট রিনিউ সম্পন্ন করলাম দ্রুত সময়েই। এরপর ভিসার জন্য হাসিবকে দিলাম পাসপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ডকুমেন্টস জমা দিয়ে ১০/১২ দিনের মধ্যেই মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ড দুই দেশেরই ই-ভিসা পেয়ে গেলাম, টুরিস্ট ভিসা - সিঙ্গেল এন্ট্রি। এরপর ট্যুর প্ল্যান ফাইনাল করে প্রথমেই করে ফেললাম মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স এর ঢাকা-কুয়ালালামপুর এবং থাই এয়ারওয়েজের ব্যাংকক-ঢাকা রুটের বিমান টিকেট।
একমাস পরে ফেব্রুয়ারীর ৯ তারিখ শুনি মালয়েশিয়ান ভিসা নাকি বাতিল হয়েছে!!! অনলাইনে চেক করে দেখি ঘটনা সত্য। মহা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। ইতিমধ্যে ইন্টারনাল ট্রান্সফার এর আরও ৪টি টিকেট করে ফেলেছি। কয়েকজন এর সাথে কথা বললাম, ভিসা দিয়ে কোন ঘোষণা ছাড়া ভিসা ক্যান্সেল! এমন ঘটনা কেউ কখনো শোনে নাই। অবশেষে স্কুল ফ্রেন্ড নিয়মিত ব্যবসায়িক কাজে মালয়েশিয়া যাতায়াতকারী মাহমুদুর রহমান আপন জানালো, মালয়েশিয়ান ভিসা পোর্টালের সফটওয়্যার এর সমস্যার কারণে ভিসা ইনভেলিড দেখাচ্ছে, অনেকেই এই সমস্যা ফেস করেছে। খুব শীঘ্রই ঠিক হয়ে যাবে। ১২ তারিখ অনলাইনে চেক করে দেখি ভিসা স্ট্যাটাস ভ্যালিড দেখাচ্ছে। হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। এরপর ট্যুর প্ল্যান ফাইনাল করে ফেললাম; সাথে সকল হোটেল বুকিং। প্ল্যান মোটামুটি এরকমঃ
১৭ তারিখ রাত ১২ঃ৫০ এর Malaysian Airlines এর Boeing 737 Max ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর পৌঁছবো সকাল ০৭টায়৷ এরপর ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে দ্রুত ইমিগ্রেশন শেষ করে টার্মিনাল ১ হতে টার্মিনাল ২ এ গিয়ে সকাল ১০ঃ০০ টার Air Asia Barhad এর AK6334 ফ্লাইটে লাংকাউই রওনা দিয়ে বেলা ১১টায় পৌঁছাবো লাংকাউই। হোটেল বুক করেছি HIG Hotel & Convention, Kuah তে। ঈগল স্কয়ারের কাছে।
১৮ তারিখ লাংকাউইতেই থাকবো।
১৯ তারিখ বিকাল ৪ঃ৩০ এর Malaysia Airlines MH4743 ফ্লাইটে পেনাং রওনা হয়ে সন্ধ্যা ৬ঃ০০টা নাগাদ পেনাং পৌছাবো। হোটেল বুক করেছি Georgetown এর Bishop Hotel।
২০ তারিখ পেনাং এ থাকবো।
২১ তারিখ সকালের বাসে পেনাং থেকে কুয়ালালামপুর রওনা হবো। প্রয়োজনে সময় পরিবর্তন সম্ভব, কারণ বাসে যাবো। রাতে কুয়ালালামপুর এক্সপ্লোর করবো। হোটেল বুক করেছি কুয়ালালামপুর এর China Town এর Nanyang Hote।
২২ তারিখ সকালের নাস্তা শেষে জেন্টিং হাইল্যান্ড উইথ বাটু কেইভ ডে ট্রিপ এ বের হবো প্যাকেজ ট্যুর বুকিং করে। রাতে কুয়ালালামপুর এক্সপ্লোর করবো। রাতে থাকবো Nanyang Hote।
২৩ তারিখ মালাকা ডে ট্রিপ। রাতে কুয়ালালামপুর এক্সপ্লোর করবো। রাতে থাকবো Nanyang Hote।
২৪ তারিখ দুপুর বারোটার Batik Air OD540 ফ্লাইটে ফুকেট রওনা হয়ে দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ ফুকেট পৌঁছাবো। হোটেল বুক করেছি Patong Beach এর কাছে Freedom Hote।
২৫ তারিখ ফুকেট থেকে ফি ফি রওনা হবো সকাল ০৯টার ফেরিতে। হোটেল বুক করেছি Ton Sai Bay এলাকার Phi Phi Hote।
২৬ তারিখ সকালে ফিফি থেকে ফেরিতে করে ক্রাবি রওনা হয়ে দুপুরের পরে ক্রাবি পৌঁছাবো। হোটেল বুক করেছি Hop Inn Krabi (Building B)।
২৭ তারিখ দুপুর ০২ঃ২৫ এর ফ্লাইটে Nokair DD545 যোগে ব্যাংকক রওনা। হোটেল বুক করেছি Sukhumvit Soi 3 এলাকায়।
২৮ তারিখ রাত ১১:০০ টায় Thai Airways Airbus A320 ফ্লাইটে ঢাকা রওনা এবং রাত ০১টায় ঢাকা পৌঁছে যাওয়া।আনুমানিক রাত ৩টায় বাসায় পৌছাবো।
বাসা থেকে ইফতার করে উবার যোগে রওনা হয়ে এয়ারপোর্ট ঢোকার মুখে থাকা "এয়ারপোর্ট জামে মসজিদ" এ খতম তারাবিহ এর নামাজ পড়ে এয়ারপোর্টের ভেতরে ঢুকে পড়বো। নিরাপদ এবং আনন্দমুখর ভ্রমণের জন্য সকলের নিকট দোয়াপ্রার্থী।

মন্তব্যসমূহ