পেনাং এ চানরাইত!!! (মালয়েশিয়া ভ্রমণ - দিন ০৪)



আজ শেষ রোজা, ৩০তম রোজা, প্রায় বছর পাঁচেক পরে রোজা ৩০টি হলো। সলো ট্রিপে দেশের বাইরে ভ্রমণের উপর পেলাম ৩০তম রোজা। সকালে হোটেল হতে দশটার আগে আগে বের হলাম, গন্তব্য পেনাং হিল। কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টে কিছু ডলার ভাঙ্গিয়েছিলাম, রেট দিয়েছিলো ফইন্নির মতো, ৩.২২ রিংগিত। আজ পেনাং এ ভাঙ্গালাম ৩.৮৫ রিংগিত, যদিও ডিসপ্লের রেট ছিল ৩.৭৫। যাই হোক ডলার ভাঙ্গিয়ে গ্রাবে গাড়ী কল করতে এলো এক পিচ্চি চাশমিশ বাচ্চা মেয়ে ড্রাইভার; মুখে মাস্ক পড়া। আমি গাড়ীতে উঠার পর সে দুই মিনিট সময় চেয়ে একটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ঢুকলো, আমাদের দেশের অলটাইম ব্রেড এর মতো ব্রেড কিনে গাড়ীতে ফেরত এসে গাড়ী ড্রাইভ শুরু করলো। বেচারি মনে হয় সকালে নাস্তা করে নাই, আমাকে শুধু বললো আমি দিনের প্রথম পেসেঞ্জার। সাত কিলোমিটার পথ গাড়ী চালানোর সময় দুই-তন বার রুটি হাতে নিয়ে কি যেন দেখলো, মনে হয় এক্সপায়ার ডেট চেক করেছে। একবার ভাবলাম বলি, তুমি গাড়ী চালাতে চালাতে খেতে পারো। আসলে গত চারদিন ধরে আমি গ্রাব ড্রাইভারদের সাথে গল্প করতে করতে যাত্রা পূর্ণ করি। অনেক কথা জানা যায়, অনেক তথ্য, আবার আমার সম্পর্কে, আমাদের দেশের সম্পর্কে অনেকে কথা বলে। তাই এই পিচ্চি চাশমিশ এর সাথে গল্প শুরু করবো কিনা এই যখন ভাবছিলাম তখন দেখি তার এই রুটির কাহিনী। যাই হোক ক্ষুধার্ত কণ্যা আমাকে আধঘণ্টা ড্রাইভ করে আমাকে সকাল সাড়ে দশটার দিকে নামিয়ে দিলো পেনাং হিল এর এন্ট্রি গেটে। নেমে দেখি লম্বা লাইনের সারি, টিকেট কাউন্টার এর সামনে। 

পেনাং হিল উঠার জন্য ব্যবহৃত ফানিকুলার ট্রেনটি মালয়েশিয়ার অন্যতম ঐতিহাসিক পরিবহন ব্যবস্থা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে পাহাড়ের চূড়ায় প্রশাসনিক ও আবাসিক স্থানে সহজে যাতায়াতের জন্য এর নির্মাণ শুরু হয়। ১৯২৩ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় এবং তখন এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ফানিকুলার রেলওয়ে হিসেবে পরিচিতি পায়।

প্রাথমিকভাবে ট্রেনটি ছিল ধীরগতির এবং মাঝপথে যাত্রীদের ট্রান্সফার করতে হতো। পরে ২০১০ সালে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে নতুন ডাবল-কার সিস্টেম চালু হয়, যা দ্রুত ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করে। বর্তমানে এই ট্রেন প্রায় ৫–১০ মিনিটে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে দেয়।

প্রায় ৭৩৫ মিটার উচ্চতায় ওঠার সময় যাত্রীরা শহর, সমুদ্র ও সবুজ পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। এটি শুধু একটি পরিবহন নয়, বরং পেনাংয়ের ঐতিহ্য ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রতিদিন হাজারো ভ্রমণকারীর আকর্ষণের কেন্দ্র। 

প্রচুর চাইনিজ বংশদ্ভূত পর্যটক দেখলাম পেনাং হিলে।Penang Hill চাইনিজ কমিউনিটির কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান। এর প্রধান কারণ হলো এখানে অবস্থিত Kek Lok Si Temple, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বৌদ্ধ মন্দির। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই এলাকায় প্রার্থনা করলে সৌভাগ্য ও শান্তি আসে। এছাড়া পাহাড়ের ঠান্ডা আবহাওয়া, সবুজ পরিবেশ এবং শহরের সুন্দর দৃশ্য চাইনিজ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। চাইনিজ নববর্ষসহ বিভিন্ন উৎসবে এখানে ভিড় বেড়ে যায়। ঐতিহ্য, ধর্মীয় গুরুত্ব এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয়ে এটি তাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ ও আধ্যাত্মিক স্থান।

যাই হোক পেনাং হিলে ওঠার ট্রেনের টিকেট বিদেশি পর্যটকদের জন্য ৩০ রিংগিত, আর এক্সপ্রেস সার্ভিস রয়েছে ৮০ রিংগিত এর যেখানে কোন লাইন ধরতে হয় না। বেশীরভাগ পর্যটক লাইন ধরেই ট্রেনে উঠতে আগ্রহী মনে হলো, ঠিক আমার মতো। বেলা সোয়া এগারোটার দিকে ট্রেনে চেপে পেনাং হিলে উঠতে পারলাম। প্রায় ঘন্টা দেড়েক নিজের মতো করে ধীরস্থিরভাবে ঘুরে দেখলাম, ঠিক লাংকাউই স্কাইব্রিজ যেভাবে সময় নিয়ে ঘুরেছিলাম। বেলা সাড়ে বারোটার পরে নীচে নামার ট্রেন ধরার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে বেলা একটা নাগাদ পৌঁছে গেলাম নীচের এক্সিট পয়েন্টে। 

জুম্মা নামাজ পড়ার জন্য আশেপাশে মসজিদের খোঁজ করে গ্রাব কল করার চিন্তা করতে গিয়ে দেখি ১২০০ মিটার সামনেই মসজিদ রয়েছে, হাতেও সময় আছে মিনিট বিশেক। সোজা ঢালু পিচঢালা পথের পাশ দিয়ে ফুটপাত ধরে হাঁটা শুরু করলাম। মিনিট পনেরো হেঁটে পৌঁছে গেলাম Masjid Jamek Al Qadri তে। বাংলায় হবে মনে হয় "আল কাদির/কাদরি জামে মসজিদ"। দেড়টার আগেই পৌঁছে গেলাম আলহামদুলিল্লাহ। অযু করে ঢোকার পর খুতবা শুরু হলো। নামাজের ক্ষুদ্র কিছু ভিন্নতা চোখে পড়লো, বৈচিত্র্য রয়েছে। পাশেই কবরস্থান। জুম্মা'র নামাজ আদায় করে রওনা হলাম Kek Lok Si Temple এর উদ্দেশ্যে গ্রাবে করে। এবারো এক মহিলা ড্রাইভার, আমি পিকআপ লোকেশন একটু ভুলভাল দেয়ায় দুজনেরই দুজনকে খুঁজে পেতে একটু কষ্ট হলো। তবে সে হাসিমুখেই আমাকে রিসিভ করলো এবং মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ২ কিলোমিটার দূরের এই টেম্পল এ পৌঁছে দিলেন। প্রচন্ড রোদ না থাকলে এই পথ আধঘন্টা হেঁটে প্রকৃতি দেখতে দেখতে চলে আসা যেত, গরমের সাথে রোজাও ছিলাম। রোদের কারণে বেশী সময় রইলাম না সেখানে। আর আমি যে কোন ধর্মীয় তীর্থস্থানকে ভ্রমণ দ্রষ্টব্য বানানোর বিপক্ষে। তবে এখানে থাকা টার্টেইল পন্ড এর কাছিমের দল দেখে ভালোই লাগলো; চাইনিজ টেম্পলটিও চমৎকার। 

এখান হতে বের হতে হতে আগামীকাল এর ঈদের জন্য কোথা হতে জামা কেনা যায়, তার খোঁজ করছিলাম ছোট ভাই চ্যাটার্জির কাছে। প্রথমে সাজেস্ট করলো 1st Avenue Mall, পরে আমার প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে সাজেস্ট করলো Prangin Mall। এবার গ্রাব ড্রাইভার বছর ষাটের এক চাইনিজ বংশদ্ভূত মালয়েশিয়ান, উনার সাথে অনেক গল্প হলো। বাংলাদেশ থেকে টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে অবৈধভাবে থেকে যাওয়া বাংলাদেশীদের প্রসঙ্গে কথা হলো, রোহিঙ্গা, ভুটান-বাংলাদেস-ভারতের চিকেন নেক নিয়েও কথা হলো। তার ধারণা ছিলো বাংলাদেশী মানুষজন ততটা শিক্ষিত নয়; আমার সাথে ইংরেজিতে কথা বলে সে অবাক হলো, আমার প্রসংশা করলো। তার ছেলে ডাক্তার, সে নিজে একটা ব্যবসায়িক কাজে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে আসবে বলে জানালেন। আমি আগামীকাল কুয়ালালামপুর যাবো শুনে কিভাবে যাবো জিজ্ঞেস করলেন, আমার প্ল্যানের ভুল ধরিয়ে দিয়ে আজই অগ্রীম টিকেট কাটার পরামর্শ দিলেন, যাচ্ছি যেই Prangin Mall এ, সেখানেই রয়েছে অনেকগুলো বাস এর টিকেট কাউন্টার। জামা পরে, আগে নেমেই যেন টিকেট কেটে নেই সেই পরামর্শ দিলেন। 

গাড়ী থেকে নেমে উনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে উনার বাতলে দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী খুঁজে পেলাম কয়েকটি কাউন্টার, দুটো ঘুরে তৃতীয়টি থেকে টিকেট কেটে নিলাম; আগামীকাল সকাল সাড়ে নয়টার Billion Star Express এর কুয়ালালামপুরগামী বাসের। এরপর জামার খোঁজ, মালয়েশিয়ান ট্রেডিশনাল Baju Melayu অথবা লম্বা কুর্তাজাতীয় জামা, যার নামই জানি না, ছিলো আমার কেনার প্ল্যান। Prangin Mall এ দেখা পেলাম বাংলাদেশের এক ছেলের, সেখানকার পরিচ্ছন্নতা কর্মী। তার পরামর্শে চলে গেলাম Gama Super Market & Departmental Shop এ। সেখানে Baju Melayu ছিলো, কিন্তু আমি আসলে যা চাচ্ছিলাম তা মিলছিলো না। বন্ধু আপনকে ভিডিও কল দিলাম, একটা Baju Melayu কিনে নিবো কি না। শেষে অতিরিক্ত দাম বলে সেখান হতে আমার হোটেলের এলাকা জর্জটাউন এর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। জর্জটাউন এর লিটেল ইন্ডিয়াতে খোঁজ করলাম, পেলাম না। ইতিমধ্যে আসরের আজান হওয়ায় মসজিদের দিকে রওনা হলাম। পথে একটা রেস্টুরেন্ট চোখে পড়লো, স্থানীয় জনপ্রিয় কুজিন এর ইফতার সাজিয়ে রেখেছে, নাম Restorant Tajuddin Hussain। সেখানকার এক কর্মচারীকে আমার পছন্দের জামার ছবি দেখানোর সময় এক মহিলা ক্রেতা জামার ছবি দেখে বললেন Mydin Emporium এ চলে যেয়ে। তাকে অনুরোধ কর‍্যে উনি গুগল ম্যাপে দোকানের নাম টাইপ করে দিলেন। উনাকে ধন্যবাদ দিয়ে Kapitan Keling Mosque এ আসরের নামাজ পরে গুগল ম্যাপের দেখানো পথ ধরে মিনিট পনেরো হেঁটে চলে গেলাম সেখানে। পছন্দের মোটামুটি কাছাকাছি জামা এবং একটা টুপি কিনলাম, যদিও টুপি ম্যাচ হয় নাই। সাথে কিছু চকলেট। তিনতলা বিশাল দোকান, ইন্ডিয়ান বিগবাজার স্টাইলের। বিল পেমেন্ট করার পর আড়ং এর কথা মনে করিয়ে দিলো। কোন ব্যাগ দিলো না, কিনে নিতে হবে, দাম শুরু ২.৫০ রিংগিত থেকে। ব্যাগ ছাড়াই বের হয়ে এলাম। রাস্তা পার হওয়ার সময় একটা সুভেনিয়র শপ হতে দশ রুপিতে বিখ্যাত আর্মেনিয়ান স্ট্রিট আর্ট এর "Kids on Bicycle" এর প্রিন্টেড ছবির সাদা চটের ব্যাগ কিনে নিলাম। জামার খোঁজে কতটা পথ এসেছি খেয়াল ছিলো না। আজ সূর্যাস্ত দেখার প্ল্যান ছিলো Chew Jetty'তে। Mydin থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ, দোকানীর পরামর্শ মতে CAT Service নামক বিনা ভাড়ার বাস ধরলাম কাছেই থাকা বাস স্টপেজে মিনিট পাঁচেক অপেক্ষা করে। শেষ বিকেলে ফ্রিতে প্রায় বিশ মিনিট ঘুরলাম এই বাসে, বাসের শেষ গন্তব্য চিউ জেটি। সেখানে গিয়ে হতাশ হলাম। পূর্ব দিকে মুখ করা জেটিতে কিভাবে সূর্যাস্ত মাস্ট রিকমেন্ড করা বুঝলাম না। সেখানে সময় নষ্ট না করে ৭০০ মিটার দূরের Kapitan Keling Mosque এ চলে এলাম হাঁটতে হাঁটতে। Kapitan Keling অর্থ তামিল মুসলিমদের নেতা। জর্জ টাউনের প্রধান মসজিদ এটি। মসজিদের মূল কম্পাউন্ডের পাশে মহিলাদের নামাজের কম্পাউন্ড, তার পরে খাওয়ার জায়গা। শ'দুয়েক লোক একসাথে ইফতার করা যায়। আজকের মেনু ছিলো খেজুর, পানি, রুহ আফজার শরবতের মত পানীয়, চিকেন সমুচা, জাউভাতের মত একটা বাদাম দেয়া তরল স্যুপ জাতীয় খাবার আর একটা বক্সে পোলাও, ডিমের কারি, গরুর ঝোল। পোলাও রেখে দিলাম, বাকী খাবার খেয়ে মাগরিবের নামাজ শেষ করে ৫০০ মিটার দূরে আমার হোটেল রুমে চলে এলাম এবং আসার পথে একটা কোকাকোলা, আঙুরের জুস আর এক লিটার পানি নিয়ে এলাম। এবারের শেষ ইফতার একটু জম্পেশই হোক। হোটেলে একটু বিশ্রাম নিয়ে খাওয়া শেষ করতে কর‍তে দেখি ঘড়িতে নয়টা পেরিয়ে গেছে। প্ল্যান ছিলো চুল কাটাবো, স্যান্ডেল কিনবো, ঈদ এর চানরাত হবে দেশের মতো, পুরাই চানরাইত বইলা কথা।

লিটল ইন্ডিয়ার পাশে চাইনিজ স্ট্রিটে একজনের দেখানো পথে একটা সেলুন খুঁজে পেলাম, ভারতের ইউপির। সেখানেকার পর্ব শেষ করে বের হয়ে দেখি সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে, স্যান্ডেল কেনা হলো না...

এই দূঃখ নিয়ে Restoran Tajuddin Hussain এ মাটন বিরিয়ানি খেতে রওনা দিলাম, সেখানে গিয়ে দেখি দোকান ক্লোজ করে দিয়েছে, ফিরে গেলাম গতকাল এর Kapitan Restaurant এ। বাংলাদেশি আরেক ছেলের সাথে দেখা, এখানে ওয়েটার এর কাজ করে। গতকাল এর জনকে আজ দেখতে পেলাম না। আজকের এই ছেলেকে মাটন বিরিয়ানির অর্ডার করলে সে পরে চিকেন বিরিয়ানি নিয়ে এলো, সাথে সোডা লেমনেড। খাওয়া দাওয়া শেষে এবার চা পর্ব, গন্তব্য গতকাল এর সেই Yea Kadai; গিয়ে ফাঁকা পেলাম গতকাল এর রোড সাইড হাইসিট টেবিলটিই। এখানে গতকাল যে ছেলেকে পেয়েছিলাম বাংলাদেশের, আজ অন্য আরেকজন এর দেখা পেলাম, সে নিজেই আমাকে মাসালা চা অর্ডার করতে বললো। আমি চা পান করার ফাঁকে সে গল্প করলো, মুন্সিগঞ্জ সদরের পাশে বাসা, মালয়েশিয়া এসেছে আড়াই বছরের মতো হয়েছে। দেশে গিয়ে মাসালা চা'এর দোকান দেয়ার ইচ্ছে তার। চা শেষ করে ফাঁকা রাস্তা দিয়ে মধ্য রাতে হোটেলে ফিরলাম। আগামীকাল সকাল ছয়টায় উঠে ব্যাগ গুছিয়ে তৈরী হয়ে আটটার ঈদ জামাত ধরতে হবে। খারাপ খবর সকালের নাস্তার জন্য আগামীকাল সকালে Kapitan Restaurant খোলা থাকবে না।

মন্তব্যসমূহ

Translate

বোকা পর্যটকের কথা

মানুষ যেমন হঠাৎ করেই কারো প্রেমে পড়ে, ঠিক তেমনই করে আমিও প্রেমে পড়েছি ভ্রমণের। আজব এক নেশায় নেশাগ্রস্থ, কবে থেকে জানি না। তবে নিজের আর্থ-সামাজিক অবস্থানে লড়াই করে টিকে থাকার পর ভ্রমণে মনঃসংযোগ করতে উদ্যত হই। সেই থেকে যখনই সময়-সুযোগ হয় বেড়িয়ে পড়ি ঘর হতে, ভ্রমণের তরে। মজার ব্যাপার হল, আমি সাইক্লিস্ট নই, সাঁতার কাটতে পারি না, না পারি ট্র্যাকিং, হাইকিং, ক্লাইম্বিং। কোন ধরণের এডভেঞ্চারধর্মী কোন গুণই আমার নেই, শুধু আছে ভ্রমণের শখ আর অদম্য ইচ্ছাটুকু। আর সেই ইচ্ছা থেকেই সময় সময় আমার ঘুরে বেড়ানো আর সেই গল্পগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখা এই ডায়েরীতে। আমার এই লেখাগুলো বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগত ডায়েরীতে লেখা ছিল; সেগুলো সব একত্রে সংরক্ষণ করে রাখার নিমিত্তেই এই ব্লগ। যদি আপনাদের কারো এই লেখাগুলো কোন কাজে লাগে তবে আমার পরিশ্রম কিছুটা হলেও সার্থক হবে।

পোস্ট সংরক্ষণাগার

যোগাযোগ ফর্ম

প্রেরণ